সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই জুলাই ২০২৩, ১:২৭ পিএম

বেহালা বা ভায়োলিন হাতে নেওয়া মানেই সুরের দুনিয়ায় প্রবেশ করা। কিন্তু শুরুতে অনেক সময় আমরা দ্বিধায় থাকি—কীভাবে ধরলে হাত ব্যথা হবে না? কীভাবে বসলে দীর্ঘক্ষণ অনায়াসে বাজানো যাবে? চলুন, কোনো জটিল নিয়মে না গিয়ে একদম বন্ধুর মতো করে শিখে নিই সঠিক ভঙ্গিটা।
Table of Contents
বাজাতে বসার সময় প্রথমেই মনে রাখবেন, আপনার শরীর যেন খুব শক্ত বা টানটান না হয়ে থাকে। মেরুদণ্ডটা সোজা রেখে স্বাভাবিকভাবে বসুন। পায়ের অবস্থানটা এমন রাখুন যেন আপনি বেশ আরাম পাচ্ছেন। বিশেষ করে বাঁ পা-টি সামান্য একটু বের করে বসার চেষ্টা করুন, এতে বেহালা রাখার জন্য একটা ভালো ভারসাম্য তৈরি হয়। নিজেকে রিল্যাক্স রাখলে সুরটাও কিন্তু অনেক মিষ্টি বের হয়!
বেহালাটা যখন চিবুকের নিচে নেবেন, তখন ভাববেন না যে এটাকে খুব জোরে চেপে ধরতে হবে। আসলে, আপনার চিবুকের নিচে একে আলতো করে বসিয়ে দিন। বেহালা আপনার শরীরের একটি বাড়তি অংশ—একে যন্ত্রণাদায়ক কিছু মনে করার কোনো কারণ নেই। আপনার চিবুক আর কাঁধের মাঝে বেহালাটাকে আরামদায়কভাবে ঠাঁই দিন। দেখবেন, বেশ কয়েকদিন অভ্যস্ত হয়ে গেলে এটি এমনিই আপনার শরীরের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে।
বেহালা বাজনোর প্রাণ হলো ‘বো’ বা ধনুক। এটা ধরার সময় ভুল করলে কিন্তু কবজিতে টান লাগতে পারে। একদম সহজ পদ্ধতি হলো:
ধনুকের যে কালো অংশ বা ‘ফ্রগ’ থাকে, সেখানে আপনার বৃদ্ধাঙ্গুলিটা আলতো করে রাখুন।
প্রথম আঙুল বা ইনডেক্স ফিঙ্গারটা গ্রিপের ওপর রাখুন।
বাকি আঙুলগুলো এমনভাবে শিথিল করে রাখুন যেন ধনুকটা আপনার হাতের সাথে যেন একীভূত হয়ে আছে। কোনো জোর করবেন না, হালকা হাতে ধরলেই আঙুলগুলো চমৎকারভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
আমরা হয়তো অনেকেই খুব দ্রুত সুর তোলা শুরু করতে চাই। কিন্তু বিশ্বাস করুন, যদি শুরুতেই এই ছোটখাটো ভঙ্গিগুলো আয়ত্ত করে ফেলেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে আপনি অনেক বড় সুবিধা পাবেন। হাত ব্যথা হবে না, ক্লান্তি আসবে না—বরং বাজানোর আনন্দটা বহুগুণ বেড়ে যাবে। সামনে একটা আয়না রাখুন আর নিয়মিত প্র্যাকটিস করতে থাকুন, দেখবেন আপনার হাতের জড়তা কয়েকদিনেই কেটে যাচ্ছে।
বেহালা শেখার পুরো যাত্রাটা হোক আনন্দের। আপনার কাছে যদি মনে হয় কোনো নির্দিষ্ট অংশ বুঝতে একটু কষ্ট হচ্ছে, তবে আমাদের অবশ্যই জানাবেন। আমরা আছি আপনার পাশে!
মন্তব্য