সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

ভারতীয় সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিং একসময় প্লেব্যাক সংগীত থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে অরিজিতের এমন সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ উঠতেই নিজের জীবনের একটি সময়ের কথা স্মরণ করেছেন আরেক জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী শান্তনু মুখোপাধ্যায়, যিনি শান নামেই বেশি পরিচিত। তার ভাষ্য, কর্মজীবনের একটি পর্যায়ে তিনিও গান গাওয়া ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন।
নব্বইয়ের দশক থেকে দুই হাজারের দশক পর্যন্ত বলিউডের সংগীতজগতে শান ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম। মসৃণ, সুরেলা ও স্বতন্ত্র কণ্ঠের জন্য তিনি শ্রোতাদের বিশেষ ভালোবাসা পেয়েছেন। দীর্ঘ সংগীতজীবনে বিভিন্ন ধরনের গান গাইলেও রোমান্টিক ও সুরনির্ভর গানে তার সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘চাঁদ সিফারিশ’, ‘হে শোনা’, ‘যব সে তেরে নয়না’ এবং ‘বেহতি হাওয়া সা থা ওহ’।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অরিজিতের প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শান জানান, বিষয়টিকে পুরোপুরি গান ছেড়ে দেওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, অরিজিৎ এখনো গান গাইছেন এবং ভবিষ্যতেও তাকে নতুন প্লেব্যাক গানে শোনা যেতে পারে।
শান বলেন, অরিজিৎ পুরোপুরি সংগীত থেকে সরে যাচ্ছেন—এমনটা তিনি মনে করেন না। তার ধারণা, অরিজিতের রেকর্ড করা বেশ কিছু গান এখনো প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক বছরেও শ্রোতারা তার কণ্ঠে নতুন গান শুনতে পারবেন।
অরিজিতের এমন সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে শান বলেন, এর প্রকৃত উত্তর কেবল অরিজিৎ নিজেই দিতে পারবেন। তিনি মনে করেন, শিল্পীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিতও হতে পারে। তাই বর্তমান অবস্থানকে চূড়ান্ত বা অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই।
এই প্রসঙ্গেই নিজের কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন শান। তিনি জানান, বয়স যখন প্রায় ৩৩ বা ৩৪ বছর, তখন তিনিও এক ধরনের মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। তত দিনে তিনি নানা ধরনের গান গেয়েছেন, সংগীতজগতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন এবং কয়েকটি বড় পুরস্কারও অর্জন করেছেন। কিন্তু সাফল্যের সেই সময়েও তার মনে প্রশ্ন জেগেছিল, একই ধরনের ব্যস্ততার মধ্যে তিনি কি শুধু ঘুরপাক খেয়ে চলেছেন?
শানের ভাষ্য, সে সময় সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। তিনি ভাবতেন, জীবনে একটি পর্যায়ে পৌঁছানোর পর সমাজের জন্য কিছু করা প্রয়োজন। কিন্তু গান, রেকর্ডিং এবং পেশাগত ব্যস্ততার কারণে সে জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা সম্ভব হচ্ছিল না। ক্রমাগত কাজের চাপে তার মনে হতে থাকে, তিনি যেন একই চক্রের মধ্যেই আটকে পড়েছেন।
সেই অভিজ্ঞতার কারণেই অরিজিতের বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে নিজের অতীতের কিছু মিল খুঁজে পান শান। একজন শিল্পীর কর্মজীবনে সাফল্য, জনপ্রিয়তা ও ব্যস্ততার পাশাপাশি কখনো কখনো নতুন করে নিজের পথ নির্ধারণের প্রয়োজনও দেখা দেয়—তার বক্তব্যে সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন ঘটেছে।
অরিজিতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, তা সময়ই বলবে। তবে শানের মতে, বর্তমানে এটুকু বলা যায় যে অরিজিতের সংগীত থেকে পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার কোনো চূড়ান্ত চিত্র এখনো তৈরি হয়নি। বরং তার রেকর্ড করা ও ভবিষ্যতে প্রকাশিতব্য গান নিয়ে শ্রোতাদের আগ্রহ বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন এই প্রবীণ সংগীতশিল্পী।
মন্তব্য