সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ৫:১১ পিএম

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল সাম্প্রতিক এক কনসার্টে তৈরি করেছেন আবেগঘন ও স্মরণীয় এক মুহূর্ত। অনুষ্ঠানের মাঝপথে নয় মাস বয়সী ছেলেকে প্রথমবারের মতো দর্শকদের সামনে নিয়ে আসেন তিনি। সন্তানকে কোলে নিয়ে গেয়ে ওঠেন বহুল জনপ্রিয় গান ‘বাবা’। সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে পিতৃত্বের এই ব্যক্তিগত মুহূর্ত মিলেমিশে কনসার্টটিকে দর্শকদের কাছে বিশেষ করে তোলে।
একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ওই কনসার্টে শুরুতে সবকিছু চলছিল স্বাভাবিক নিয়মেই। মঞ্চে গান পরিবেশন করছিলেন নোবেল। হঠাৎ করেই তিনি দর্শকদের উদ্দেশে জানান, তিনি নিজেও এখন একজন বাবা। তাঁর নয় মাস বয়সী ছেলে সেদিন কনসার্টে উপস্থিত রয়েছে। তাই ছেলেকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চান তিনি।
এরপর মঞ্চের পেছনের দিকে চলে যান নোবেল। কিছুক্ষণ পর সন্তানকে কোলে নিয়ে আবার সামনে ফিরে আসেন। মাইক্রোফোন হাতে শিশুটিকে বুকের কাছে আগলে রেখে দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন নিজের জীবনের এই আনন্দঘন খবর। এ সময় তিনি জানান, তাঁর ছেলের নাম রেখেছেন ‘নোবেল জুনিয়র’। প্রিয় শিল্পীকে সন্তানের সঙ্গে এমন আকস্মিকভাবে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন উপস্থিত দর্শকরা। মুহূর্তেই করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে যায় অনুষ্ঠানস্থল। অনেকেই মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করতে শুরু করেন।
এরপর নোবেল শুরু করেন ‘বাবা’ গানটি। গানটি জেমস-এর সঙ্গে বিশেষভাবে পরিচিত এবং বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় একটি গান। নিজের ছোট ছেলেকে কোলে নিয়ে বাবাকে ঘিরে আবেগের এই গান পরিবেশন করায় মুহূর্তটির তাৎপর্য আরও বেড়ে যায়। গানজুড়ে সন্তানকে স্নেহভরে আগলে রেখেছিলেন নোবেল। তাঁর কণ্ঠের আবেগ এবং কোলে থাকা শিশুটির উপস্থিতি মিলিয়ে মঞ্চে তৈরি হয় এক অনন্য পারিবারিক আবহ।
দর্শকরাও সেই আবেগের অংশ হয়ে ওঠেন। অনেকে মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে নোবেলের পরিবেশনার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। কেউ কেউ পুরো দৃশ্য ভিডিও করে রাখেন। পরে সেই ভিডিওর বিভিন্ন অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নোবেলের ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। সংগীতশিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনের এমন একটি বিরল মুহূর্ত প্রকাশ্যে আসায় অনেকে আবেগঘন প্রতিক্রিয়াও জানান।
নোবেলের জন্যও ঘটনাটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। একজন শিল্পী হিসেবে মঞ্চে অসংখ্যবার দর্শকদের সামনে দাঁড়ালেও, এবার তাঁর উপস্থিতির কেন্দ্রে ছিল পিতৃত্বের নতুন পরিচয়। গান গাওয়ার পাশাপাশি নিজের সন্তানকে প্রকাশ্যে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি মুহূর্তকে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মতো।
নোবেল ও তাঁর স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়ার সন্তানসম্ভবা হওয়ার খবর গত বছরের জুনে প্রকাশ্যে আসে। এরপর তাঁদের পরিবারে নতুন সদস্যের আগমন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ থাকলেও, নোবেল তাঁর ছেলেকে এত দিন অনেকটাই জনসমক্ষে আনা থেকে বিরত ছিলেন। ফলে কনসার্টের মঞ্চে হঠাৎ করে শিশুটিকে নিয়ে আসার ঘটনা উপস্থিত দর্শকদের জন্য ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত।
বিশেষ করে ‘বাবা’ গানটি বেছে নেওয়ার বিষয়টিও মুহূর্তটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। এটি নিছক একটি গান পরিবেশনের ঘটনা ছিল না; বরং নিজের সন্তানকে কোলে নিয়ে একজন নতুন বাবার অনুভূতি প্রকাশের এক প্রতীকী মুহূর্ত হয়ে ওঠে। দর্শকদের চোখের সামনে সংগীতশিল্পী নোবেলের পাশাপাশি ফুটে ওঠে তাঁর জীবনের আরেকটি পরিচয়—একজন বাবা হিসেবে তাঁর আবেগ ও ভালোবাসা।
কনসার্টে উপস্থিত অনেক দর্শকের কাছে ঘটনাটি তাই সাধারণ কোনো পরিবেশনার অংশ হয়ে থাকেনি। বরং সংগীত, পারিবারিক আবেগ এবং আকস্মিক এক পরিচয়পর্ব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে স্মরণীয় একটি মুহূর্ত। নোবেলের ভক্তদের জন্যও ছেলেকে নিয়ে তাঁর এই প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল শিল্পীর ব্যক্তিজীবনের একান্ত আনন্দের সঙ্গে কাছ থেকে পরিচিত হওয়ার বিরল সুযোগ।
মঞ্চে নিজের সন্তানকে কোলে নিয়ে গান গাওয়ার সেই দৃশ্যের মধ্য দিয়ে নোবেল যেন তাঁর সংগীতজীবনের পরিচিত আবেগকে নতুন এক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন। আর সেই কারণেই কনসার্টের এই পর্বটি শুধু একটি গান পরিবেশনের স্মৃতি নয়, বরং একজন শিল্পীর জীবনে পিতৃত্বের নতুন অধ্যায়ের আবেগঘন প্রকাশ হিসেবেও দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য